Reading Time: 1 minute

কি করতে চলেছিঃ

“বিতর্কের অ আ ক খ” শিরোনামে একটা সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছি। কাজেই, বুঝতেই পারছো, এই সিরিজে আমরা বিতর্ক জিনিসটা শেখার চেষ্টা করবো। কিন্তু তাতে আর নতুনত্ব কি থাকলো! আমরা চাই সবকিছুকে একটু মজা নিয়ে, একটু অনুভব করে শিখতে। তাই আমরা শুধু রামগরুরের ছানাদের মতো নীরস মুখে বিতর্কের নিয়ম-কানুন নিয়ে আলোচনা করে যাবো না, তাতে তোমরা Bored হয়ে যাবে। বরং আমরা নিয়ম-কানুন শেখার পাশাপাশি বিতর্ক করার কায়দা-কানুন শিখবো,সুন্দরমতো কথা বলার কিছু কৌশল জেনে নিবো, আমার বিতর্ক-অভিজ্ঞতার নানা দিক তোমাদের সাথে আলোচনা করবো। ভালো কথা, প্রত্যেক পর্বের শেষে তোমাদের সব ধরণের সমস্যার কথা জানাবে। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করবো তোমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে লিখতে। 

কাদের জন্য লিখছিঃ

ক) ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমি অনেককেই দেখেছি বন্ধুদের সাথে জমিয়ে আড্ডা মারা, ফূর্তিবাজ ছেলে/মেয়েরা যখন বিতর্ক করতে যায় তখন ভয়ে আধমরা হয়ে কথা বলতে ভুলে যায়। স্কুল-কলেজ থেকে কোনো বিতর্ক কর্মশালায় নিয়ে গেলে লজ্জায় গা বাঁচিয়ে এক কোণায় বসে থাকে কিংবা কোথাও বিতর্ক শিখতে গেলে মুখ ফুটিয়ে নিজের প্রশ্নটি করতে পারে না। কাজেই তারা আর বিতর্ক জিনিসটাকে মজার সাথে নিতে পারে না। ফলে বিতর্কও শেখা হয়ে উঠে না!
কিন্তু কী জানো? তাদেরও না বিতর্ক শেখার অনেক আগ্রহ, আর দশজনের সামনে নিজের কথা বলতে তাদের খুব ইচ্ছা হয়! কিন্তু সাহস করে আর বিতর্ক “শিখতে” পারে না বলে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। তাদের জন্যই এই সিরিজ।

খ) কিংবা ধরো, আমাকে অনেকে অনেক সময় এসে বলে, তারা বিতর্ক শিখতে চায়; এখন কি করবে? আমি তখন এক বাক্যে কোনো উত্তর দিতে পারি না। হয়তো দু-একটা নিয়ম কানুন বলতে পারি কিন্তু তাতে কি আর বিতর্ক শেখা হয়! কাজেই, যারা বুঝতে পারছো না কিভাবে শুরু করবে তারা এই সিরিজ দিয়ে শুরু করে দিতে পারো।

কি কি নিয়ে আলোচনা করা হবেঃ

আগেই বলেছি, আমরা শুধুমাত্র নিয়ম-কানুন বা Rules আলোচনা করেই বসে থাকবো না। যেমন- এর পরে আমরা কথা বলবো ক্যানো বিতর্ক করবে এই নিয়ে, আমরা কথা বলবো বিতর্ক করতে গেলে তোমাকে কি কি জানতে হবে বা পড়তে হবে তা নিয়ে, কিভাবে নিজের জড়তা কাটানো যায়, কিভাবে নিজের যুক্তি সাজাতে হয়, Script তৈরি করতে হয়, বিতর্কের বিভিন্ন টপিক এবং বিভিন্ন রকমের বিতর্কের ধরণ- ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং সাথে অতি অবশ্যই সংসদীয় বিতর্ক নিয়ে!

একটি সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ

যদি কেউ মনে করে বসে থাকো যে, তুমি এই সিরিজের সব লেখা পড়লেই খুব ভালো বিতার্কিক হয়ে যাবে- তাহলে খুব খুব ভুল করবে। কারণ আর যা-ই প্র্যাক্টিস ছাড়া করা যাক না ক্যানো বিতর্ক তুমি প্র্যাক্টিস করা ছাড়া শিখতে পারবে না! শুধু তাই না, তোমাকে প্রচুর কথা বলতে জানতে হবে, পড়াশুনা করতে হবে, নিজের স্কুল-কলেজে ডিবেট সেশনের আয়োজন করে তাতে নিজেকে মেলে ধরতে হবে- তবেই আমি বলবো তুমি বিতর্ক শিখতে শুরু করেছো।

অতএব

এই সিরিজ আমি লিখছি তোমাদের সেই অনাগত সুন্দর বিতর্ক-যাত্রার পথটুকু দেখিয়ে দিতে, যুক্তির আলো-আঁধারীর মায়াময় পরিবেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। আশা করছি সে যাত্রায় আমার সাথেই থাকবে।

বিতর্ক এবং হবু বিতার্কিকদের জয় হোক!

আগাম কৃতজ্ঞতাঃ

পুরো সিরিজ জুড়ে সাথে থাকবেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির প্রেসিডেন্ট তানভীর আহমাদ সিদ্দিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির পাঠচক্রের যুগ্ম আহবায়ক এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের বিতার্কিক সাকিব মোঃ আরাফাত। আর যাবতীয় দলিলপত্রের জন্য আমি চট্টগ্রামের বিতর্ক সংগঠন “দৃষ্টি চট্টগ্রাম”এর কাছে কৃতজ্ঞ। 🙂