Reading Time: 1 minute

 

এইচ আই ভি এবং এইডস কোন নতুন শব্দ নয়। আবালবৃদ্ধবণিতা সবাই কমবেশি পরিচিত এই দুটি শব্দের সাথে। বেশি পরিচিত এইডস শব্দটির সাথে। এইডস সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে যে ধারণা আছে তা অনেকসময়ই ত্রুটিপূর্ণ এবং ভুলতথ্যে ভরা। এইডস কি তা সম্পর্কে মানুষকে জিজ্ঞাসা করলে কি উত্তর পাওয়া যায় তার কিছু নমুনা দিচ্ছি:
১. কালাবিলাই(কালো বিড়াল) কামড়াইলে এইডস হয়। (প্রথম দিকের জনসচেতনামূলক বিজ্ঞাপনের ভুল ব্যাখ্যা)
২. জামাই-বউ ছাড়াই কারো লগে ঘুমাইলেই এইডস হইবো।
৩. আল্লাহ বা ভগবান বা ঈশ্বর (ধর্মানুযায়ী) শাস্তি। (সাধারণ মানুষের ধারণা, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়, যতদূর জানি।)
৪. দুইজন এক জায়গায় মুতলেই এইডস হবে। (!!??)
৫. পতিতালয়ে গেলে অকাম করলেই হবে।
এই নোটে এইডস এবং এইচ আই ভি সম্পর্কিত তথ্য যথাসম্ভব সাধারণ ভাষায় লিখার চেষ্টা করেছি। আশার করি, অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর পাবেন। নতুন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানা উত্তর দিবার চেষ্টা করবো।

প্রথমেই আসি, এইচ আই ভি এবং এইডস এর মধ্যে পার্থক্য নিয়ে।

এইচ আই ভি:

এইচ আই ভি হচ্ছে একটি রেট্রোভাইরাস যে প্রধানত রক্তের শ্বেত রক্তকণিকার বিশেষ কোষ (CD4+ T cell) দিয়ে বংশবৃদ্ধি এবং বেঁচে থাকে। তবে অন্যান্য কোষেও এটি আক্রমণ এবং বেঁচে থাকতে পারে। এইচ আই ভি এর পূর্ণরূপ হচ্ছে হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা মানুষের রোগ-ক্ষমতা হ্রাসকারী ভাইরাস। এইচ আই ভি এর মানুষে দুটি প্রজাতি আছে এইচ আই ভি ১ & ২। এইচ আই ভি ১ সবচেয়ে মারাত্নক এবং রোগ সৃষ্টিকারী যার সবচেয়ে সম্ভাব্য উৎপক্তি শিম্পাঞ্জি থেকে। অপরপ্রজাতিটি ধারণা করা হয় সুটি মাঙগাবে বানর থেকে এসেছে। বানরেও একইরকম ভাইরাস রয়েছে যার নাম এসআইভি যা অন্তত ৪৫ টি নন হিইম্যান প্রাইমেটকে আক্রান্ত করে যদিও এই ভাইরাস খুব কমই মারাত্নক অসুস্হতা তৈরি করে এইসব বানরে।

এইডস:

এইডস হচ্ছে শরীরের একটি অবস্হা যখন শরীরের কোন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না। এইডস এর পূর্ণরূপ হচ্ছে একোয়ার্ড ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম। এই অবস্হায় শরীরে রোগপ্রতিরক্ষাকারী(সংক্রমণ-ঘটিত) বিশেষ কোষ CD4+ T cellএর সংখ্যা দ্রুত কমে যায়। এই বিশেষ কোষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোষ যা শরীরের প্রতিরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এই কোষের কার্যাবলি বলতে গেলে আলাদা ভাবে দু-তিনটা নোট লিখা লাগবে। যেহেতু এইচ আই ভি ভাইরাস এই কোষকে আক্রমণ করে এবং এর সংখ্যা কমিয়ে দেয়, তাতে আপনার শরীর সকল জীবাণুর কাছে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে যায়। অনেকটা আপনাকে খালি হাতে যুদ্ধের ময়দানে পাঠিয়ে দেয়া। এইডস নিজে এইডস রোগীকে মারবে না, কিন্তু অন্যান্য জীবাণুর জন্য ব্যবস্হা করে দেয়। এইডস রোগী তাই অন্যান্য সামান্য রোগে মারা যায়।
এইচ আই ভি কিভাবে ছড়ায়: এইচ আই ভি রক্ত, বীর্য/কামরস, একই সিরিঞ্জ ব্যবহার, মায়ের দুধ এর মাধ্যমে ছড়ায়। এইচ আই ভি আক্রান্ত মানুষের রক্ত নিলে আপনার দেহেও এইচ আই ভি আসবে। এইচ আই ভি আক্রান্ত কারও(পুরুষ/মহিলা) সাথে দৈহিক সম্পর্ক (সেটা যোনাঙ্গ দিয়েই হোক আর পায়ু দিয়েই হোক) করলে, যদি বীর্য আদান-প্রদান হয় তবে এইচ আই ভি আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে। এর কারণ হচ্ছে, মেয়েদের যৌনাঙ্গ(ভ্যাজাইনা), ছেলেদের যোনাঙ্গ(পেনিস), পায়ুতে মিউকাস লেয়ার থাকে, যা দিয়ে এইচ আই ভি ভাইরাস সহজেই রক্তে পৌছে যেতে পারে । একই ব্যাপার কামরস (প্রিসেমিনাল ফ্লুইড) এর ক্ষেত্রেও। কামরস হচ্ছে, বীর্য বের হবার পূর্বে যে আঠালো তরল পদার্থ বের হয়। গর্ভবতী মা যদি এইচ আ্‌ই ভি আক্রান্ত হয়, তার সন্তানও এইচ আই ভি আক্রান্ত হবে। মায়ের দুধের মাধ্যমেও এইচ আই ভি ছড়ায়। একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে এইচ আই ভি এর সম্ভাবনা অনেক থাকে, এটা নির্ভর করে সিরিঞ্জে থাকা রক্তের অবস্হা এবং সময়। এই কারণে, যারা মাদকাসক্ত তাদের মধ্যে এইচ আই ভি এবং হেপাটাইটিস বি বেশি দেখা যায়। তবে, চুমু খেলে বা জড়িয়ে ধরলে বা একই গ্লাস-প্লেটে খাওয়া দাওয়ায় এইচ আই ভি ছড়ায় না। ফলের রস খেয়ে এইচ আই ভি ছড়ায় না। আমার এই পোষ্টটি পড়ে দেখতে পারেন এই সম্পর্কে। Link: 1

এইচ আই ভি এর প্রতিকার ওষুধ: এন্টিরেট্রোভাইভরাল থেরাপি (কার্ট এবং হার্ট) অত্যন্ত কার্যকর। এই থেরাপিতে বৃদ্ধিরত ভাইরাসকে ধ্বংস করা যায় এবং ভাইরাস এর সংখ্যা একদম নাই করে দেয়া যায়। তবে, এই থেরাপি দিয়ে ভাইরাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায় না। এইচ আই ভি শরীরে খুব চমৎকারভাবে লুকিয়ে এই থেরাপির ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। যখন থেরাপি বন্ধ বা অনিয়মিত হয়, এইচ আই ভি আবার বংশবৃদ্ধি শুরু করে। আরোও একটা সমস্যা হচ্ছে, এইচ আই ভির মিউটেশন করে এমন ভাইরাসে পরিণত হয় থেরাপি আর কাজ করে না। এই ঘটনাকে বলে ভাইরাল রেজিজটেন্স। তাছাড়া, এই্চ আই ভি অনেক প্রকার কোষকে আক্রান্ত করে তাই এদের ধরা মুশকিল। এইচ আই ভি এর কোন ভেকসিন নাই। ভেকসিন তৈরি করাও মুশকিল (অনেকগুলো কারণ আছে)।

প্রশ্ন ১: এইচ আই ভি মশা দিয়ে ছড়াতে পারে? যদি না হয়, কেন?

  • এইচ আই ভি মশা দিয়ে ছড়ায় না। আরবোভাইরাস এর বাহক হচ্ছে আর্থোপোড শ্রেণীর (মশা, কীট, ছাড়পোকা এই ফ্যামিলির), অন্য ভাইরাস না। আর মশা সিরিঞ্জের সূঁচ নয়, মশার হুল এর এনাটমি অনেক ভিন্ন। তাছাড়া মশা দিয়ে ছড়ানোর জন্য এইচ আই ভি কে তার বংশবৃদ্ধির একটি ধাপ অন্তত মশার পেটে সম্পন্ন করতে হবে। এইচ আই ভি মানুষের দেহের বাইরে বেশিক্ষণ বাঁচে না।

প্রশ্ন ২: ওরাল সেক্স কি এইচ আই ভি ছড়ায়?

  • ওরাল সেক্স এর মাধ্যমে ছড়ায় না, বা একদম শুন্যের কাছাকাছি (যদি মুখে সে রকম আলসার থাকে তবে সম্ভাবনা থাকতে পারে)।

প্রশ্ন ৩: সেক্স বা যৌন মিলনের সময় কি করলে এইচ আই ভি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে?

  • কমডম ব্যবহার করা উচিত। কনডমের সাথে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা ভালো। কারণ, এতে কনডম ভাঙ্গার সম্ভাবনা কম। আরো একটা কারণ, মেয়েদের যোনাঙ্গে যৌনমিলনের সময় অনেক রস(ফ্লুয়িড) নি:সরণ করে, যা এইচ আই ভি আক্রান্তের সম্ভাবনা কমায় (তার মানে এই না, যে প্রতিরোধ করবে)।

প্রশ্ন ৪: ছেলেদের খাতনা থাকলে কি এইচ আই ভি কম ছড়ায়?

  • খাতনা করা পুরুষাঙ্গে এইচ আই ভি পজিটিভ মেয়ে বা ছেলে থেকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম। (তার মানে এই না, খাতনা করা থাকলেই সুরক্ষিত। )

প্রশ্ন ৫: আমি বা আমার পার্টনার এইচ আই ভি আক্রান্ত আমরা কি বাচ্চা নিবো?

  • এই ব্যাপারে ডাক্তারের মতামত এবং আপনার এইচ আই ভি অবস্হা বিবেচনা করুন। বাচ্চা এইচ আই ভি আক্রান্ত হলে তার জীবনটা কেমন হবে, চিন্তা করে দেখুন।

প্রশ্ন ৬: আমি মাদকাসক্ত। কিভাবে এইচ আই ভি মুক্ত থাকবো?

  • নতুন সূঁচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন। শুধু এইচ আই ভি না, আরো অনেক রোগের সম্ভাবনা থাকে একই সূঁচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে।

প্রশ্ন ৭: এইচ আই ভি কি খোলা বাতাসে বেঁচে থাকে?

-এইচ আই ভি দেহের বাইরে বেশিক্ষণ বাঁচে না। এর কারণ হচ্ছে এটি এনভেলপড ভাইরাস। এটি তাপমাত্রা, অম্ল-ক্ষারক, শুষ্কতা এর প্রতি সংবেদী।

প্রশ্ন ৮: একই শেভিং ব্লেড ব্যবহার করলে এ কতটা সম্ভাবনা থাকে?

  • একই শেভিং ব্লেড ব্যবহার এমনিতেই স্বাস্হ্যসম্মত নয়। এইচ আই ভি দেহের বাইরে বেশিক্ষণ বাঁচে না। তবে, ব্লেডের মসৃণ স্তরের তাপমাত্রা এবং সম্ভাব্য রক্ত/পানির মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বাঁচার সম্ভাবনা আছে। একই ব্লেড ব্যবহারে হেপাটাইটিস বি এর সম্ভাবনাও থাকে।

প্রশ্ন ৯: কিভাবে এইচ আই ভি টেস্ট করবো? পজিটিভ হলে কি করবো?

  • বিভিন্ন ক্লিনিকে অনেকদিন ধরেই এই টেস্ট করানো হয়। ভালো ক্লিনিক দেখে করাবেন। পজিটিভ হলে পুনরায় করাবেন। মিথ্যা পজিটিভ এর সম্ভাবনা থাকতে পারে। পজিটিভ হলে, অতি দ্রুত ডাক্তার দেখান। তাদের পরামর্শ অনুসরণ করুন।

প্রশ্ন ১০: সমকামী হলে কি এইচ আই ভির সম্ভাবনা বেশি থাকে? আফ্রিকান হলে সম্ভাবনা থাকে?

  • সবারই এইচ আই ভি আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। সমকামীদের মধ্যে প্রথমে এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এর কারণ হচ্ছে, সমকামী পুরুষের মধ্যে কনডম ব্যবহার খুবই কম। তাছাড়া, পায়ুতে কনডম ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা বেশি (ঘর্ষণ, যদি লুব্রিকেন্ট ব্যবহার না হয়; একই কথা নারীদের যৌনাঙ্গের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য)। এছাড়াও পায়ুকামে ইন্টার্নাল ইনজুরির সম্ভাবনা বেশি, তাতে ছড়ানোর সুযোগ বেশি (নারী পুরুষের মিলনের সময়ও একই কথা প্রযোজ্য, মেয়েদের যোনাঙ্গেও একই ধরণের ইনজুরি হতে পারে, যেমন-ধর্ষণের বেলায়)। সমকামী নারীদের মধ্যে ছড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম, যেহেতু তাদের মধ্যে কোন ফ্লুইড আদান-প্রদান হয় না, তবে একই ডিলডো বা সেক্স টয় ব্যবহার করলে সম্ভাবনা থাকতে পারে (এই প্রশ্নের উত্তর ইএমসি এর বিজ্ঞানীর কাছ থেকে প্রাপ্ত)।

বাংলাদেশে সংখ্যায় অনেক কম হলেও ভাল পরিমাণ এইচ আই ভি আক্রান্ত রয়েছে। আইসিডিডিআর বি এর বিজ্ঞানী ডা: তাসনিজ আজিম এর গবেষণা উঠে আসে অনেক এইচ আই ভি লোক-লজ্জার ভয়ে এইচ আই ভি এর কথা অস্বীকার করে। ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, অনেক এইচ আই ভি আক্রান্ত তাদের স্বামী/স্ত্রী এর সাথে অনিরাপদ যৌন মিলন স্হাপন করে। এর কারণ হচ্ছে, কনডম নিয়ে ভয়/অনিচ্ছ্বা/সন্দেহ। অনেকে এইচ আই ভি বিশ্বাস করে না। তাছাড়া, বহু মাদক-সেবী রক্ত দিচ্ছে যাদের অনেকেই কোন-রকম পরীক্ষা ছাড়াই রক্ত দিচ্ছে। Link: 2

এইচ আই ভি মানে এই নয়, ঐ ছেলে বা ঐ মেয়ে খারাপ, আপনার যেমন হেপাটাইটিস বি হতে পারে, তাদেরও একই অবস্হা। এইচ আই ভি আক্রান্তকে ভয় বা অবজ্ঞা নয় বরং তাদেরকে সহমর্মিতা দেখান। তারাও আপনার আমার মতো মানুষ। একটি ভাইরাস তাদের জীবনকে এলোমেলো করে দিচ্ছে যা তারা অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই কষ্টের জীবনে, আপনার অসহযোগিতা তাদের সামাজিক জীবনকে নষ্ট করে দেয়। ঘৃণা নয়, বরং আসুন তাদেরকে সাহায্য করি। তারা শুধুই অসুস্হ যেমন আপনি আমি অসুস্হ হই। আপনার একটি ভালবাসামাখা দৃষ্টি, সাহায্যের হাত এবং বন্ধুত্বের হাসি দিতে পারে তাদের এইচ আই ভির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রেরণা। এইচ আই ভি আমাদের শত্রু, এইচ আই ভি আক্রান্ত মানুষ নয়।

পুনশ্চ:
১. সহজভাবে বোঝানোর জন্য সহজ ভাষায় লিখার চেষ্টা করেছি। অনেক সায়েন্টিফিক টার্ম বাদ দিয়েছি। যথাসম্ভব বাংলায় লিখার চেষ্টা করেছি।
২. আরো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট সেকশনে করতে পারেন বা মেসেজ জানাতে পারেন। জানার জন্য কোন লজ্জা বা ভয় থাকা উচিত না।
৩. বড় পোষ্টের জন্য দু:খিত। আশা করি, অধিকাংশ ভুল ধারণা দূর হবে।
৪. ভুল-ত্রুটি কমেন্টে উল্লেখ করলে খুবই খুশি হবো।
ধন্যবাদ
মীর মুবাশ্বির খালিদ
ইরাসমাস মেডিকেল সেন্টার, রটারডাম
দি নেদারল্যান্ডস

লেখকের অভিজ্ঞতা: ২০১৪ থেকে এখন পর্যন্ত এইচ আই ভি এর লেটেন্সী এর গবেষণায় যুক্ত।
[/av_textblock]

[av_one_third first min_height=” vertical_alignment=” space=” custom_margin=” margin=’0px’ padding=’0px’ border=” border_color=” radius=’0px’ background_color=” src=” background_position=’top left’ background_repeat=’no-repeat’ animation=”][/av_one_third]

[av_one_full first min_height=” vertical_alignment=” space=” custom_margin=” margin=’0px’ padding=’0px’ border=” border_color=” radius=’0px’ background_color=” src=” background_position=’top left’ background_repeat=’no-repeat’ animation=”][/av_one_full]

[av_image src=’http://shoshikkha.com/wp-content/themes/enfold/config-templatebuilder/avia-template-builder/images/placeholder.jpg’ align=’center’ styling=” hover=” link=” target=” caption=” font_size=” appearance=” overlay_opacity=’0.4′ overlay_color=’#000000′ overlay_text_color=’#ffffff’ animation=’no-animation’][/av_image]

Mir Mubashir Khalid

Mir Mubashir Khalid

Graduate Student
Currently doing PhD on molecular pathogenesis of Zika virus. Previous research focused on Imunnogenetic polymorphism of GBS, HIV latency reversal, Liver Organoids (Adult stem cells). background: Genetic Engineering & Biotechnology(BS & MS, DU, Bangladesh); Infection & Immunity (MSc, EUR, Netherlands). Current Position: Graduate Student at Gladstone Institutes (UCSF, USA) & PhD Candidate at ErasmusMC (Eur, Netherlands). I reply to comments on my post when I get times but please be patient since I am usually busy with my works. Please do not contact me by Phone, email, Facebook, Twitter, Instagram or other social platform.
Mir Mubashir Khalid
%d bloggers like this: