Reading Time: 1 minute

পর্ব শূন্যের লিংক: http://shoshikkha.com/archives/3525

“There are wounds that never show on the body that are deeper and more hurtful than anything that bleeds.”

গত পর্বে আমরা মানসিক স্বাস্থ্যbe curious not judgemental নিয়ে ভাসা ভাসা আলোচনা করেছিলাম। এবার আমরা ধারাবাহিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

তবে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার প্রথম শর্ত হচ্ছে দুটো জিনিস ছুড়ে ফেলে দেয়া।

১/জাজমেন্টালিটি
২/নিজের ধ্যানধারণা নিয়ে পক্ষপাতিত্ব।

এই দুটো জিনিস ব্যাখা করার জন্যে আমরা একটি কেইস স্টাডি করবো। এই সিরিজের প্রতিটা কেইস স্টাডির সিরিয়াল নাম্বার থাকবে পরবর্তী রেফারেন্স এর জন্যে।

কেইস স্টাডি (১):

মিলার (ছদ্মনাম) বড় বোন হুট করেই একদিন আবিষ্কার করলেন মিলা দিনদিন কেমন যেন উগ্র হয়ে যাচ্ছে। রাত করে ঘরে ফিরছে, বাবা মায়ের সাথে চুড়ান্ত দূর্ব্যবহার করছে। প্রচন্ড এরোগ্যান্ট এবং জেদী হয়ে গেছে। একদিন তিনি মিলার ব্যাগ এ সিগারেট এর প্যাকেট দেখতে পেলেন। তিনি পরদিনই মিলা কে নিয়ে হাজির হলেন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। মিলার বয়স ১৬।

এই কেইস টা হাতে নিয়েই আপনার মনে হতে পারে, ছিহ মেয়েটা এরকম! বয়স মাত্র ১৬, এখনি সিগারেট ধরে ফেললো! ছিহ কি ধরনের বন্ধুদের সংগে মেলামেশা করে। বাবা মায়ের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে। নষ্ট হয়ে গেছে মেয়েটা!
এখানে চুড়ান্ত জাজমেন্টালিটি প্রকাশ পায়। মেয়েটার ব্যাগ এ সিগারেট এর প্যাকেট তার মানেই এই নয় যে সে সিগারেট খায়। হয়ত এটা তার বন্ধুর! তার বন্ধু সিগারেট খায় মানেই এই নয় যে তার বন্ধুটা খারাপ, বা তার সঙ্গতে মিলাও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। হতে পারে তার বন্ধুটি ভুলবশত সিগারেট ধরে ফেলেছিলো এখন ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করছে এবং তাকে সাহায্য করার জন্য মিলা তার সিগারেটের প্যাকেট টি সরিয়ে এনেছে। মিলা রাত করে বাড়ি ফিরে মানেই সে নষ্ট হয়ে গেছে তা নয়, হতে পারে মিলা বাসায় লুকিয়ে একটা গরীব বাচ্চাকে টিউশনি করায়। মিলার উগ্রতা, জেদ এবং এরোগ্যান্স এর কারণ হতে পারে বয়সজনিত হরমোনাল চেঞ্জ অথবা রেজাল্টের টেনশন।
কি? এখনো মনে হচ্ছে মিলা মেয়েটা খুব খারাপ?

জাজমেন্টালিটি শুধু আরেকজনের ইমেজ নয়, ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দিবে আপনাকেও। তখন মনে হবে চারপাশে সবাই খারাপ, এই অবস্থায় আর যাইহোক আপনি কাউকে সাহায্য করতে পারবেন না। ধৈর্য ধরে তার পুরো বক্তব্য শোনা প্র‍্যাক্টিস করতে হবে, তাকে কোন ফাঁক ফোকর ক্লিয়ার করতে দিতে হবে। কিছু অস্পষ্টতা থাকলে প্রশ্ন করে জেনে নিতে হবে। মনগড়ন কিছু ভেবে নিয়ে তাকে বিচার করলে হবেনা।

কাজেই একজন বন্ধু কাউন্সিলর হিসেবে আপনার প্রথম শপথ হবে, ” ধৈর্য ধরে সব শুনে সাহায্য করতে নেমেছি, বিচার করতে নয়।”

২ নম্বর পয়েন্টের বিষয়ে বলবো, হতেই পারে মিলা খারাপ কিছুতে জড়িয়ে পড়েছে। হয়ত সেটা আপনার ব্যক্তিগত আদর্শের সাথে প্রচন্ড সাংঘর্ষিক। কিন্তু আপনার এক্সেপ্টেন্স বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে আপনি আপনি, এবং সে মিলা। There is a reason you are not her, and she is not you. আপনি তাকে আপনার মতামত নিশ্চয়ই বলতে পারেন, তবে সেটা অবশ্যই হবে আপনার ব্যক্তিগত মতামত, কোন চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য নয়। “ছিহ” শব্দ, বা অভিব্যক্তি দুটোই নিষিদ্ধ।

আপনি যখন এ দুটো জিনিসের উর্ধ্বে গিয়ে নিজের ধৈর্যশক্তি ও গ্রহণক্ষমতা কে আপন করে নিবেন, আমি বলবো মনস্তত্ব নিয়ে পড়াশোনা করতে আপনি প্রস্তুত।

আজকে আপনারা একটু ভাবুন। আপনাদের চারপাশের যাদেরকে না জেনে না কথা বলে শুধু শোনা কথায় খারাপ ভেবে নিয়েছেন তাদের এক ধাপ পিছিয়ে এসে একটু বেনিফিট অফ ডাউট দিন। তাদের জাজ না করে কি কি অন্য সিনারিও হতে পারে সেটা চিন্তা করুন। তাদের জুতোয় পা দিয়ে একবার পৃথিবী দেখুন, নিজের মধ্যে ইতিবাচকতার বীজ বপন করুন।
এই এক পা পিছিয়ে আসাতেই আপনার চারপাশের জগত আরো অনেক সুন্দর ও পজিটিভ হয়ে উঠবে!

সাথে একটা ছোট ৫ মিনিটের একটি রিল্যাক্সিং মেডিটেশনের লিংক।
http://www.youtube.com/watch?v=i50ZAs7v9es&w=195&h=195]

আজকের এক্সারসাইজ এটাই!

আগামী পর্বে আমরা মানসিক অসুস্থতা এবং ডিজর্ডার নিয়ে কিছু থিওরেটিক্যাল পড়াশোনা করবো এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক অসুখ কে ক্যাটেগরাইজ করা শিখব।

%d bloggers like this: