Reading Time: 1 minute

সবাইকে মাতৃভাষা দিবসের পলাশরাঙ্গা শুভেচ্ছা। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে স্বশিক্ষায়, আমি হুমায়রা তাসনিম, নিয়ে এলাম ভাষাভিত্তিক নতুন সিরিজ “জগতজুড়ে যত ভাষা”। প্রথম পর্বে আজ আমরা আবিষ্কার করতে যাচ্ছি সোয়াহিলি ভাষাকে। শুরু হোক তব পথচলা 😀

সোয়াহিলি ভাষা, যা কিনা ‘কিসোয়াহিলি’ নামেও পরিচিত , বান্টু ভাষাগোত্রের মধ্যে একটি অন্যতম প্রধান ভাষা। মূলত এটি আফ্রিকার গ্রেট লেক অঞ্চলে বসবাসকারী সোয়াহিলি জনগোষ্ঠীর প্রধান ভাষা। যদিও প্রায় ৫০ লক্ষ থেকে দেড় কোটি মানুষের মাতৃভাষা সোয়াহিলি, কিন্তু আফ্রিকার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় দেশসমূহ যেমন, তানজানিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, মোজাম্বিক এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে এটি আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে বেশি প্রচলিত। এবং সেই হিসেবে প্রায় ৫০ লক্ষ থেকে দেড় কোটি মানুষ এ ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। কুমেরু দ্বীপপুঞ্জের কুমেরু ভাষার সাথে নিবিড় সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার কারণে একে মাঝেমধ্যে কুমেরু ভাষার উপভাষা হিসেবেও ধরা হয়।

চারটি দেশ- তানজানিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে সোয়াহিলিকে জাতীয় ভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এটি আফ্রিকান ইউনিয়নে কর্মক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভাষাগুলোর (working language) মধ্যে অন্যতম এবং পূর্ব আফ্রিকান কমিউনিটির অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা (official language)।

সোয়াহিলি অনেকটা বাংলা ভাষার মতই বহু ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত। কিন্তু এর উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব আরবী ভাষার। সোয়াহিলি জনগোষ্ঠী ইসলাম ধর্মের অনুসারী হওয়ায় মূলত তাদের ভাষায় আরবী শব্দের প্রাধান্য বেশি। বাকি ভাষার যেমন, জার্মান, পর্তুগিজ, ইংরেজি, হিন্দি, ফ্রেঞ্চ এদের শব্দসমূহ সাধারনত সে দেশের ঔপনিবেশিকগণ, ব্যবসায়ী এবং দাসদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে এই ভাষায় প্রবেশ করেছে।

সোয়াহিলি শব্দটি মূলত আরবী শব্দ ‘সাহিল্’ থেকে এসেছে, যার অর্থ সীমানা বা উপকূল। ঐতিহ্যগত্ভাবে সোয়াহিলিকে তানজানিয়া এবোং কেনিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলসমূহের ভাষা হিসেবে ধরা হয়। যদিও এটি উপকূলবর্তী মূল ভূখন্ডের স্থানীয়দের প্রধান ভাষা ছিল, কিন্তু স্বাধীনতার পর আফ্রিকান গ্রেট লেক অঞ্চলের প্রেসিডেন্টগণ এ ভাষাকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সোয়াহিলি উপকূলের পার্শ্ববর্তী দ্বীপসমূহে এ ভাষা ছড়িয়ে পড়ে ‘জেলেদের ভাষা’ হিসেবে। খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দী থেকে খ্রিস্টাব্দ ৬ষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত সোয়াহিলি ভাষা এসকল এলাকায় মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে শুধুমাত্র সোয়াহিলির ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের কারণে।

সোয়াহিলি মূলত আরবী অথবা ল্যাটিন দুই হরফেই লেখা হয়। আরবী হরফে লেখা সোয়াহিলি ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শনগুলো হচ্ছে ১৭১১ সালে লেখা কিছু চিঠি। এবং সবচেয়ে প্রাচীন সোয়াহিলি সাহিত্যের নিদর্শন হলো ১৭২৮ সালে লিখিত ‘তাম্বুকার ইতিহাস’ নামে একটি মহাকাব্য। প্র্থম সোয়াহিলি সংবাদপত্র ছিল ‘Habari ya Mwezi’ যা ১৮৯৫ সালে ধর্মযাজকদের দ্বারা প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশের সময় পূর্ব আফ্রিকায় প্রশাসনিক কাজে সোয়াহিলি প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এবং মূলত এই কারনেই সোয়াহিলি লিখতে ল্যাটিন হরফ ব্যবহৃত হতো, যার প্রচলন আজও রয়ে গেছে।

 

উৎস : উইকিপিডিয়া

Humayra18

Humayra18

এক একাডেমিক পড়াশুনা ছাড়া পৃথিবীর যাবতীয় আজাইরা কাজে ইন্টারেস্টেড একজন মানুষ। 😐